Friday, 9 October 2015

I was named after I was born!



I knew when I will die.
Like the date of birth,
It was also written in block letters,
The date of demise, right after a child was born.
I had the right to die before that day,
Could have been killed by someone,
Had the freedom to kill myself, die in a war or
Demolished by a disease.
I could even ask someone to take my life.

Most people did not want to face all that’s stated above.
They lived with fear, they were scared.
But they were in love with their lives.

I had a dying wish.
Just one. And it seemed impossible,
Unattainable and not permissible.
I wanted to live a day more.

Monday, 28 September 2015

তুমি ডিজিটাল, আমি ডিজিটাল, বাংলাদেশ ডিজিটাল।




ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে বুক ফুলিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, বিজ্ঞাপন, প্রজ্ঞাপন, গান, নাটক, টক শো ইত্যাদি করে বর্তমান সরকার অনেক খুশি। বাংলাদেশের সীমাহীন উন্নতি হয়েছে। আজকে রিকশাওয়ালার কাছেও স্মারটফোন পৌঁছে গেছে। তিনি ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে জানেন।
ইন্টারনেট- জাদুর জগৎ- এটা এখন বাচ্চারাও জানে। আজকে আমার কি নিয়ে সমস্যা?
কোনই সমস্যা নাই। আমি খুশি। বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে বলে কথা!
পুরানো কথা বাসি হলে যেমন ফলে তেমনি চক চক করলেই সোনা হয় না। আজকে ঢাকা শহর যতটা চক চক করে ততটাই ধুলা আর মরচে পড়ে আছে মানুষের মস্তিষ্কে। আর সোজা করে বলি, বাংলাদেশের সব মানুষের হাতে স্মার্টফোন, সবার হাতের নাগালে ইন্টারনেট নিয়ে আসলেই কিন্তু দেশ ডিজিটাল হবে না।  এক দেশ ভর্তি অলস মানুষ তৈরি হবে।  হাতের মুঠয় প্রযুক্তি এসে গেছে যেগুলোর একটাও বাংলাদেশের কোন তরুণ বা বিজ্ঞানী বানায় নি। হয়ত বাটি চালান দিলে দুই একজনকে খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্যের প্রবর্তিত, বানানো জিনিশ জীবনে ধারণ করতে পেরে বাংলাদেশের সরল সোজা বোকা মানুষগুলো অনেক খুশি। আররেহ,ডিজিটাল! বলে, দাও চিৎকার!
এই দেশে এখন ডিজিটাল মস্তিষ্ক বানানোর উদ্যোগ যে নেয়া হয় নি এই নিয়ে আমি চিন্তিত। আমার চিন্তায় কার কি এসে যায় ? কারো না। তাও, আমি যে আজকে টাইপ করছি। তথ্যের জন্য ইন্টারনেট ঘাঁটছি, ফেসবুকে আমার ব্লগের লিঙ্ক শেয়ার করছি, ওয়া্টসঅ্যাপে গেজাচ্ছি। এর কোনটাই আমাকে ডিজিটাল বানায় না। আমি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই প্রযুক্তি গুলা প্র আমার উপর নির্ভরশীল না। তাদের উন্নতি আমার হাতে নির্ভর করছে না। তাদের কে ছাপিয়ে নতুন কিছু তৈরী করার জ্ঞান ও দক্ষতা আমার নেই। বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ প্রযুক্তি নির্মাতারা বাগিয়ে নিচ্ছে আমাদের অথর্ব বানিয়ে।  
বাংলাদেশের মানুষ অন্যের বানানো এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। আজকে যখন দেখা যায় ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুল থেকে এসেই কম্পিউটার গেইম খেয়া শুরু করে দিচ্ছে, আরেকটু বড় হলে(টিন এজাররা) তারা বাঘা বাঘা গেইম খেলে ও  এই নিয়ে শো অফ করছে, তখন কোনো এক দেশে অষ্টম শ্রেণী থেকে বিজ্ঞানের ছাত্রদের সরাসরি জাভা, পাইথনে কোডিং শিখানো শুরু হয়ে গেছে। কোন কোন স্কুলে তা দশম শ্রেণী থেকে শুরু হয়ে চলছে দ্বাদশ শ্রেণী অব্ধি। অতএব, এই বাচ্চার দুই থেকে চার বছরের কোডিং এর জ্ঞ্যন দিয়ে দিব্বি আজকে ছোট খাট আপ থেকে শুরু করে, গেইম এবং পরবর্তিতে অনেকেই ভাল সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কলেজ/ ইউনিভার্সিটি শেষ করার আগেই।
স্কুলে কি তাদের অপশনালি পড়ানো হচ্ছে? না। এইটা পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্গত। ভালো শিক্ষকেরা তাদের পড়ায়। আমাদের দেশে যেখানে নিয়ম আছে, যে বাচ্চা বিজ্ঞান পড়বে সে হয় জীববিজ্ঞান নিবে, না হলে কম্পইউটার নামক একটা অজনপ্রিয় বিষয় নিবে। জীববিজ্ঞান নেয়ার প্রবণতা বেশি কারণ,
১।বাংলাদেশে কে কোথায় চান্স পায় ঠিক নাই।
২। আসলে ১৬-১৮ বছরের ছেলেমেয়েরা আসলে কি হতে চায় জানে না। তাদের কোনদিন career counseling দেয়া হয় নাই।
৩। জীববিজ্ঞান নিলে মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে পারবে( সে ডাক্তার হতে না চাইলেও- আরেহ অপশন সব ওপেন রাখতে হবে!)।
৪।জীববিজ্ঞান  যে কেউ পড়াতে পারে!( মুখস্থ করে, ভালমত ছবিগুলা প্র্যাকটিস করলেই এ+)
উপরোক্ত তিনটি কারনের চেয়ে আর বেশি কারণ আছে। আপনারা সংযোজন করে নিবেন।
এখন আসি কেন কম্পিউটার পরতে অনীহা?
১। কম্পিউটার নিলে তো মেদিকেলে পরীক্ষা দিতে পারবে না!
২। আসলে ১৬-১৮ বছরের ছেলেমেয়েরা আসলে কি হতে চায় জানে না। তাদের কোনদিন career counseling দেয়া হয় নাই।
৩। কম্পিউটার পড়ানোর ভাল শিক্ষক নাই।
৪। বুঝে পড়ার বিষয়। যদি সৃজনশীল প্রশ্নেও কমন না পরে?(!!)
হ্যাঁ। প্রতি বছর এই প্রশ্নগুলো অনেক ছেলেমেয়ের মাথায় আসে। দুই একজন সাহস করে ধরেন কম্পিউটার পরল। তারা কোডিং এর অধ্যায় টা সম্পূর্ণ ভাবে ছেড়ে পরীক্ষায় এ+ যোগার করতে সক্ষম হবে। কারণ হল, আমাদের প্রানপ্রিয় জাফর ইকবাল স্যার আন্দোলন করে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করালেও, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যাবস্থা মারাত্মক সৃজনশীলতা দেখিয়েছে, একি সৃজনশীল প্রশ্ন পুনরায় দেয়ার মাধ্যমে/এই প্রশ্ন আর ওই প্রশ্নের মধ্যে যেকোন একটা উত্তর দিলে হবে/অপশন রাখার পদ্ধতি/এটা অথবা ওইটা উত্তর দাও – এই সবের মাঝে কোডিং এর বেচারা অধ্যায়টা আজও অপশনাল। কিছু অধ্যায় ছেড়ে যাওয়া, না পড়েও ঠিক ঠাক নম্বর তুলে নেয়ার রেওয়াজ বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বিরাজমান।  তার উপরে গত বছর যে প্রশ্নগুলো এসেছে ওইগুলা তোহ পড়ে  যাবেই না!
বাংলাদেশের সরকার যদি কোডিং শেখা স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক না করে। আর পরীক্ষা গুলোতেও এই বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশ্ন এবং যথাযথ ব্যাবহারিক( practical) পরীক্ষা না রাখে। আমরা ডিজিটাল গ্যাজেটের দাস হয়েই মারা যাব। ১৭ কোটি  মানুষের দেশ আসলে ছোট দেশ না। বাংলাদেশের আশিটা প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোতেই  কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
পড়ানো হয়। আর আছে ১৫-১৬ তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ সেখানেও হয় সি এস ই অথবা শুধু সি এস পড়ানো হয়।
এত যে কম্পিউটার বিজ্ঞানী  ও ইঞ্জিনিয়ার প্রতি বছর বের হচ্ছেন তারা যাচ্ছেন কোথায় ? সত্যি কথা হল, বেশীরভাগই দেশ ছাড়েন। যারা থাকেন, তারা প্রথমে টেনে- টুনে কষ্টে- সৃষ্টে থাকেন এর পর পলায়ন করেন। দেশামাতার প্রতি অগাধ প্রেমও তাদের ধরে রাখতে পারে না। দেশ তাদের ধরে রাখতে সক্ষম না। গলাবাজি করে লাভ নেই। আমি সরকারের প্রচেষ্টার বিরোধী বা উদ্যোগের বিপরীতে কথা বলছি না। সরকার আজকে ডিজিটাল ডিজিটাল বলে যতই চিল্লাক না কেন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে উদ্ভাবন এবং নতুন সফটওয়্যার, আপ, গেইম বানানোর মজা এবং ভীত না ঢুকিয়ে দিলে প্রযুক্তির দৌড় সেলফি তোলা আর আপলোড করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০১২ সালের MDG  আর ২০৪১ সালের SGD ধরতে গিয়ে আগামী ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশ কোন যায়গায় কতদূর পিছিয়ে থাকবে তা এখনি বলে দেয়া যায়।  ব্যাপারটা হবে বাংলাদেশের ইংরেজি শিক্ষার মত। যারা পড়ায় তারাও ঠিকমতো গ্রামার জানে না। যারা পড়ে তারাও শিখে না। এইটা চক্রাকারে চলতেই থাকে। আজও চলছে।
আমার কথাবার্তা ইংরেজি নিয়ে না। এখন ইংরেজির সাফাই গাইলে কোন বাঙালি বোদ্ধা বলবেন মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার কথা! ইংরেজি উঠায় দিয়ে সবকিছু বাংলায় করে ফেলার কথা!
ওইসব ছাড়লাম। ভাষা যেটা আসলেই শেখা উচিৎ তা হল programming language। আমাদের পার্শবর্তী একটা বিশাল দেশ আছে। সেখানে দুনিয়ার বড় বড় আইটি কোম্পানিগুলো কেন আসে? তাদের বাজার এতটা প্রসারিত কেন? কেন তারা আজকে সবচেয়ে বেশি সিইও উৎপাদনকারী দেশ ?
ভারতে  ইঞ্জিনীরিং পড়ার সময় প্রথম বর্ষেই বাংলাদেশের ছাত্ররা ধাক্কা খায়। এটা তারা বিশ্বের যেকোন দেশে গিয়ে পড়তে গেলেই খায়। গুটিকয়েক সফল ছাত্রের উদাহরণ বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রি ভ্যাবলার মত c programming ক্লাসে তাকিয়ে থাকে আর পরীক্ষার আগে রাজ্যের দুশ্চিন্তায় মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে। এদিকে দেখা যায় ভারতীয় ছাত্র ছাত্রীরা এই পরীক্ষার আগে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা ইঞ্জিনীরিং পড়তে আসবে এটা নবম দশম শ্রেণী থেকেই জানত, আর জানত বিধায় এক একটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার জন্য আমাদের দেশের বাচ্চাদের মত সিলেক্টিভ প্রশ্ন পড়ে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর কোচিং করে নি। তারা প্রত্যেকে একাদশ ও দশম শ্রেণিতে পুঙ্খানুপুঙ্খু ভাবে পড়েছে।  ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রথম বর্ষে বাদধ্যতামূলক coding and programming course থাকে বলে তারা স্কুলে ভালমতো প্রোগ্রামিং শেখে না। তাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা সুদূরপ্রসারী যেটা আমাদের দেশে কল্পনার অতীত। আজ থেকে অন্তত ১০-১৫ বছর আগে থেকেই ভারতীয় শিক্ষা ব্যাবস্থায় বিজ্ঞান ছাত্রদের জন্য একরকম বাধ্যতামূলক ‘ডিজিটাল’ শিক্ষা দেয়া শুরু হয়েছে। আপনি মানুন আর নাই মানুন তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। আমি ভারতের গুণগান গাইছি না। ভারতের গুন তুলে ধরছি। যেখান থেকে আমাদের এখনি শিখতে হবে আর শিক্ষা নিতে হবে কারণ এমিনিতেও অনেক দেরি হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে ভাল কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বিষয়ের শিক্ষার্থীরদের সাথে কথা বলে আমি জেনেছি তারাও অকপটে স্বীকার করে যে, স্কুলে এই বিষয় টা ভালভাবে বিজ্ঞানের ছাত্রদের পড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কাজে দিত। ছোটবেলায় আমরা অনেক কিছু দ্রুত শিখতে পারি। এবং প্রোগ্রামিং শিখলে এবং অনুশিলন করলে  মস্তিষ্কের ভাল চর্চা হয় এটাও  গবেষকরা বলে থাকেন। তাহলে কেন না ? দেশের এত এত ছেলেমেয়ে যে সিএসসি পড়ে বের হয় তারা সবাই বিশাল programmer হবে তা না। কিন্তু তারা ছোট বাচ্চাদের basic programming অবশ্যই শেখাতে সক্ষম। এতে তাদের উন্নতি ও বাধ্যতামূলক। এই দেশের তরুণদের ধরে রাখতে হবে কাজ দিয়ে, সুযোগ দিয়ে। এই অগণিত computer engineer রা অনায়সে শিক্ষক হতে পারেন। স্কুলের বাচ্চাদের coding শেখায় সহযোগীতা করতে পারেন। আরও অনেক কিছু সরকার করতে পারে। আমরাও পারি। আমি আপাতত এই নিয়ে নিয়মিত গলাবাজি করব। আজকে যদি অষ্টম/নবম শ্রেণী থেকে শুধু বিজ্ঞান না, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষার বাচ্চারাও coding শেখা শুরু করে, প্রত্যেকদিন এক এক জন হয়ত একটা করে MS WORD বানাতে সক্ষম হত। বা এর চেয়েও ভাল কিছু বানাতো! Computer science and engineering  এক সৃজনশীল বিষয়। এর ব্যাপ্তি আমাদের কল্পনার বাইরে। এর ভবিষ্যৎ আগামী ৩০-৪০ বছরে সমানভাবে উজ্জ্বল। এমন এক যুগে আমরা বসবাস করি যেখানে সবাইকে টাইপ করা, ফেইসবুক ব্যাবহার করা শিখানো, স্কুলের শিক্ষকদের পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন দেয়া শেখানো মুখ্য হতে পারে না। উদ্ভাবনী শক্তি আর সৃজনশীলতা একটা দেশের সমাজকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা আমরা আনুমান করতে পারব না। কিন্তু হ্যা, আজকে থেকেও যদি জোড়েশোরে বাচ্চাদের coding সেখান শুরু করা হয় আজ থেকে অন্তত ১০ বছর পর বিশ্ব আমাদের দেশের দিকে আসলেই গোল গোল চোখ করে তাকাবে, এই দেশের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বিশ্বের বাজারে রাজত্ব করতেও পারে। যেদিন ছেলেমেয়েরা নিজেরাই নিজেদের প্রযুক্তি ও তার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে সেদিন SDG এবং MDG  নিয়ে অত লাফালাফি করার দরকার পড়বে না।  বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা শুধু যে নানাবিধ প্রকৌশল পড়বে, তা না। যদিও সবধরণের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এখন computer softwares এবং programming জানতে হয় । কোথায় এটা লাগে না বলা মুশকিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে চিল্লাতে চিল্লাতে এই দেশ শুধু অপারেটর বানাচ্ছে কোটিতে কোটীতে। আমাদের প্রযুক্তি রপ্তানি করতে হবে। এইটা মাথায় রাখলেই চলবে। আবার বলি, প্রযুক্তি ব্যাবহার করতে জানাটাই ডিজিটাল হওয়া না। আমারা প্রযুক্তির দাস হতে পারি না কিন্তু নতুন প্রযুক্তি বানিয়ে আমরা অনেককিছুই বশীভূত করতে পারি।

Sunday, 27 September 2015

আমি আরবি লিখতে, পড়তে পারি কিন্তু এই ভাষায় কথা বলতে পারি না।

এটাও একটা পুরানো লেখা। ২০১১ সালে আমি যখন প্রথম ব্লগে লেখা শুরু করি এটা প্রকাশ করেছিলাম somewhereinblog এ। না না কারণে অনিয়মিত হলেও। আমার মনে হয় লেখার বিষয়াবলী এখনও প্রাসঙ্গিক। কিছু জিনিশ এখনকার প্রেক্ষাপটে, আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে সংযজোন করা হয়েছে।  
 
এই তো সেইদিন দিয়ুর সাথে দেখা, সে এস.এস. সি পরীক্ষা দিল কেবল। রাস্তায় পেয়ে বললাম ,'দিয়ু মনি ক্যামন আছ?’
'দিদি তুমি বাইরে দিয়ু বল না তো, এম্নিতেই মন ভাল নাই!'
'ক্যান ক্যান?'
'আরেহ ধুর! ইস্লামিয়াত এক্সামে জটিল বাশ খাব!'
'হ্যা? অইটা তো আমিও খাইতে গেছিলাম, cheer up দিয়া , কিছু হবে না। তুই ঠিক A+ পাবি । '
'ছাতার কিছু হবে না! আচ্ছা বলো তো , এই যে পিচ্চি কাল থেকে আরবি পড়ছি , কি লাভ? না এই ভাষা বুঝি , না এইটা কোঁথাও কাজে লাগে। দিদি দশ বছর ,তুমিও তো পড়েছ, কি মনে আছে কিছু? এখন দিব্য ও পড়ে হুজুরের কাছে আরবি, বেচারা ক্লাস টুয়ের বাবুটা বড়ই কষ্ট পায়, কি লাভ না বুঝে কোরান খতম দেয়ায়? খামাখা এত্তগুলা আয়াত সুরা না পড়াইয়া যদি ভাষা টা শিখাইত তাও একটা কথা ছিল। আমি পুরাই গোল্লায় পড়তেছি। বলত মানুষ কেন না বুঝে পড়ে? না বুঝলে আমি ওই জিনি্ষগুলা লাইফ এ implement করব কেমনে? শুধু তাই না, পড়লেই বুঝি আমি বেহেশ্তে যাব , আল্লাহ খুব খুশি হবেন কারন আমি এত পরেও কিছুই অনুধাবন করি নাই!' 
'থাম থাম! এক দমে এত্ত কথা ক্যামনে বললি তুই?' 
'দিদি বাসায় চল, আমি আরবি ভাষা শিখে ছাড়ব, এই জিনিসের জন্য আমার জীবনের কয়েক হাজার ঘন্টা নষ্ট হইছে। '
-----------------------------------------------------------------------------------------------
দিয়ুর কথা ফেলে দেয়া যায় না। আমি নিজে যখন এই বিষয়ে চিন্তা করলাম তখন ব্যাপারটা স্পষ্ট হল।
আমার স্কুলে এক হুজুর স্যার ছিলেন, ঢাকা শহরের সনামধন্য এই স্কুলে ইসলাম ধর্ম স্যার এসে খালি বলতেন, ‘ তোমরা এই অধ্যায়ের এই প্রশ্নটা লিখ, প্রতি সপ্তাহে একটা করে আরবি quotation শিখবা, তাহলে পরীক্ষায় লিখতে পারবা। আমাদের সকল পরাশোনার মূল লক্ষ পরীক্ষায় ভাল করা , ভাল নম্বর পাওয়া। এইটায়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।এতেই স্যারের দিনের দায়িত্ব খতম হত এবং বাকি ক্লাসের সময় তিনি ঘুমাতেন আর ক্লাস বাজারের রূপ ধারন করত।
ছোটবেলায় মা ,বাবা দশ বছরের আগেই কোরান খতম দেয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন, কারন , যত বেশি আরবি পড়া হবে তত সওয়াব, পাড়া প্রতিবেশীদের বলা যাবে আমার বাচ্চা n বার কোরান শারিফ খতম দিয়েছে। সুরআ সমূহের ছন্দ সর্গীয় , নামাজের সময় পরতে ভাল লাগে , ভয় লাগলে আয়তুল কুরসি পড়ি আমরা। আমার এতে কোন সমস্যা নাই। আমি খালি বিলাপ করতেছি কেন যে কেও মনে করল না , এই ভাষাটা শেখা ঊচিত।

আমার এই কথায় কেও খুশি হবে না। এক দিক দিয়ে বাংলাদেশের অতি প্রিয় সংস্কৃতি কর্মীগন বলবেন , এই গেল বাংলা ভাষা গেল। আবার ছেলেমেয়েরা বাচ্চাকাল থেকে না বুঝে আরবি পড়ে , কিছুই শেখে না, এতা শুনলে অতি ধার্মীকরা বলবেন , আমি কোন কাফের আসছি কোথা থেকে। তাই আমি দুই দিক দিয়েই পরিষ্কার!

একবার ভারতের এক সংস্কৃতি উৎসবে গেলাম, দিল্লির স্ক্লুল ছাত্ররা সবাই হয় ফ্রেঞ্চ না হয় জার্মান ভাষা থার্ড ভাষা হিসেবে জানে। আমাদের দেশে মাদ্রাসা বোর্ডে পড়া ছেলেমেয়েরাও সারা জীবন আরবি পড়ে এই ভাষায় অনরগল কথা বলতে পারে না। যেখানে ৮০% ছেলেমেয়ে জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রথম শ্রেনী থেকেই ধর্ম পড়ে একদম দশম শ্রেনী পর্যন্ত তারাই বা কি দোষ করল? আমার মূল চিন্তা ইসলাম ধর্ম শিক্ষা নিয়ে। অনেকটা জোর করে পড়ানো হয়। বাবা, মা , পরিবার সেইরকম ধার্মীক না হলেও এইটার প্রতি জোর দেয়া হয়। এটা ভুল না, সমাজে টিকে থাকতে এটা দরকার তবে আমি যদি এই ভাষাই না বুঝি, তাহলে আমি সত্যি সত্যি সেইটা অন্তস্হ করব কেমনে?নামাজ সবচেতে ভাল ধ্যান তাই না? ধ্যানের কথা আমি অন্য ভাষায় বলি , আমার খুব ধ্যান হয়! আমার এক চীনা বন্ধু মুসলিম , একদম নামাজ ,রোজা সব করে । তার কাছে শুনলাম, চীনারা নিজেদের ভাষায় সুরা পড়ে এবং নামাজ কায়েম করে, সে নিজেও তাই করে। আমাদের সমস্যা কোথায় তাহলে? শিক্ষাব্যাবস্থায় নাকি সমাজে?

এখন তৃতীয় ভাষা শেখার ধুম পরে গেছে , মানুষ ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে ফরাসী বা জারমান ভাষা শেখে। অধিকাংশ শিক্ষীত মানুষের জীবনের দশ বছর কত আরবি পড়ল , কত পরিক্ষায় পাশ করার জন্য আয়াত শিখল, কতবার কোরান খতম দিল, ভাষাটা তখন শিখলে আজকে আমাদের একটা তৃতীয় ভাষা জানা থাকত।
নিজের ভাষায় পরলে ইসলামের নিয়ম গুলাও মনে গেথে যেত। Ethics , norms শিখতে হবে তাই তো? কন ধর্ম মিথ্যা বলতে বলে, খুন, চুরি, ডাকাতি করতে বলে? কোনো  discipline এসব বলে না। জীবনে একটা নিয়ম অনুস্বরণ করা খুবি প্রয়োজন, হয় নিজের ভাষায় নাইলে সেই ভাষা শিখে তারপরে। তাহলে ইসলামের অতুলনীয় কথাগুলি মানুষেওর মনে লেগে থাকত আর সঠিক পথে চলত।

বয়স কমানো অতি সহজ।

এটাও একটা পুরানো লেখা। ২০১১ সালে আমি যখন প্রথম ব্লগে লেখা শুরু করি এটা প্রকাশ করেছিলাম somewhereinblog এ। নানা কারণে অনিয়মিত হলেওআমার মনে হয় লেখার বিষয়াবলী এখনও প্রাসঙ্গিক। কিছু জিনিশ এখনকার প্রেক্ষাপটে, আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে সংযজোন করা হয়েছে।  

লহড়ী যখন এইচ. এস. সির জন্য কলেজে ভর্তি হবে তখন দেখা গেল বিপত্তি। লহড়ীর বয়স কাগজে কলমে ১৪ তবে অতি ভাল কলেজগুলো সুকড়া নিয়ম অনুযায়ী বেশি বয়স্ক ছাত্র ছাত্রীদের অগ্রাধীকার দিচ্ছে। অনেক রেজাল্ট ভাল থাকা সত্তেও হল না লহড়ীর। অপরদিকে তার এক বান্ধবী ১৬ বছর যার বয়স ,ঝামেলা ছাড়াই পার পেল। এতে কি লহড়ীর ও তার বাবা মা বসে থাকবে? না।
খবরের কাগজ লেগে গেল এই বলে যে এই লহড়ী এবং তার মতই আরও বাঘা বাঘা ছাত্র ছাত্রী ,যারা স্কুলে ৯০% নম্বর পেত তারা ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারল না। অথচ তাদের বয়স কম ,অর্থাৎ তারা বেশি মেধাবী!এই অবিচারের সুবিচার চাই...।ইত্যাদি ,ইত্যাদি।
আমি ৬০ বছর আগের এক কাহিনীতে বেড়াতে গিয়েছিলাম, এই ধরেন আপনার না্না/বাবার বয়সী এক মানুষের জীবনের কথা। তিনি যখন মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার জন্য ফর্ম ভরছিলেন তখন মাকে জিজ্ঞেশ করেছিলেন,’ মা আমার ক্লাসের সবাই নিজের আসল বয়স না লিখে বয়স কমায় লিখতেছে, নিজেরাও না, স্যার ই বানায় বানায় জন্ম তারিখ আর সাল লিখে দিতেছে।‘
মা বললেন, 'তুই কমাবি ক্যান? বাড়ায় লিখ!'
তিনি বাড়িয়ে লিখেছিলেন,তবে স্যার যে জন্ম তারিখ লিখে দিয়েছিল সেইটাই স্থায়ী হয়ে গেল, কালের চাকায় মূল দিনটি হারিয়ে গেল। কর্মজীবনে তিনি সমসাময়ীকদের চেয়ে ৪ বছর আগে আবসরে গেলেন কারন সবাইতো দুই বছর করে বয়স কমিয়েছিল।
আমাদের অতি প্রিয় হুমায়ূন আহমেদের জন্ম সালও দুইটি,তিনি এটি অকপটে স্বিকার করেছেন। এতে খুব গর্বের কিছু নেই।
আমাদের দেশের শিক্ষীত সমাজের কিছু মহিলা একটা বড় বিরক্তিকর কাজ করে থাকেন। ধরুন এক ছেলের মা পাত্রি দেখতে গেল, মেয়ের বয়স জিজ্ঞেস করলেন। মেয়ের মা বলল একটা বয়স বলল এবং ছেলের মা ধরে নিল যে দুই বছর কমিয়ে বলা হয়েছে। এতে যদি মেয়ের বয়স ছেলের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সে অপছন্দের পাত্রি!
আমার নিজের জীবনে এই বয়স কমানর ব্যাপার দেখে আমি ব্যাথিত। ফর্ম ফিল-আপ করার সময় শিক্ষকই বলেছিলেন রোটারি পাবলিক থেকে এফিডেভিট করা সনদ আনতে যেখানে আমার মন মত জন্ম সাল এবং জন্ম তারিখ থাকতে পারবে,ও হ্যা এস এস সি পাস করার ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর, মনে রাখতে হবে। ক্লাসে এই সনদ আনার ধুম পরেছিল। আমার মা আমাকে বলেছিলেন, ‘এটা একটা fraud এর কাজ! কারন তোমার জীবনের শুরুই বলা যায় এখন ,আর তুমি শুরুটাই একটা বড় মিথ্যা দিয়ে করবা ক্যান? অন্যদের ছেয়ে দুই বছর বেশী সরকারি চাকরি করে তুমি কি এমন পূন্য করতে পারবে বলত?’
ক্লাসে আমরা ৭ বন্ধু ছিলাম যাদের কেওই বয়স কমানর হুজুকে পরিনি আর আলগা সনদ ও জোগার করতে হয়নি। আবশ্য আমার নানি আমাকে বকেছিলেন এই বলে যে , ‘তোমরা কিছু বুঝনা। আমি সরকারি চাকরি করি নাই? আমার চেয়ে ভাল বুঝো ?এই কদিন পর ভার্সিটিতে যাবা, সেশন জ্যাম, কবে পাশ করবা ঠিক নাই, তারপর বিসিএস দিলে কয়বারে চান্স পাবা জানি না। দুই এক বছর বয়স কমালে কি হত? দুই একবার বেশি বিসিএস দেওয়া যেত। ‘
আসলে......।
দুই বছর বা তিন বছর বেশি চাকরি করা যেত
দুই বছর বেশি সুবিধাভোগ করা যেত,
মিথ্যাকে মাথায় নিয়ে আর কিছুদিন চলা যেত,আহা! কত ভাল হত!

বাস্তবতা আমাদের অনেক কিছুই করতে বাধ্য করে। তবে এই দেড়িতে পরাশোনা শেষ হওয়া , চাকরি পেতে গিয়ে বুড়িয়ে যাওয়া, ইত্যাদি ঘটনার মূল হোতা যারা তাদের ঠিক করা দরকার। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনাতো আরও প্রয়োজন ।
আমাদের দেশের জনগনের সুবিধাভোগ করার ইচ্ছা প্রবল। যুক্তিসম্মতক্রমেই দেখি , প্রথম শ্রেনীর একজন শিক্ষারথীর বয়স কোনমতেই ছয় বছরের কম হয় না। আজকাল তো আট বছরও হয়ে যায় ভর্তি কোচিং করতে করতে। তাহলে সর্বনিন্ম ১৬ বছর বয়সে এস এস সি এবং ১৮ বছরে এইচ এস সি খতম হয়। বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী কোন বাচ্চাকে ১৪ বছরে এস এস সি শেষ করতে হলে ৪ বছর বয়সে ১ম শ্রেনীতে পড়া লাগবে। হাস্যকর এই কারনে যে , তাহলে সেই বাচ্চার আই কিউ ১৩০ এর উপরে হতে হবে। Certificate অনুযাইয়ী এই দেশের বেশীরভাগ মানুষের আই কিউ ১৩০ এর উপরে! বাহ!
আমাদের দেশের অতি দূর্লভ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট, দেশে মানুষ বেশি-চাকরির ক্ষেত্র কম, তাই বলে কি নিজেকে দূষিত করার দরকার আছে? জ্ঞান অর্জনের চেয়ে কি অসৎ কাজ করা বেশি জরুরি? দুইটা জন্মতারিখ বানিয়ে দুইটাই পালন করা খুব আনন্দের? জীবনতো আর থেমে থাকছে না, না কমালেই কি। এই কাজ করতে যে সময় ব্যয় হয় সেটা আরও ভাল কাজে ব্যয় করা যায়।

Saturday, 26 September 2015

ঝামেলাময়ী

এখানে কিছু বিশেষ জায়গায় “ছ” কে “স” অথবা ইংরেজি “s” এর মত ব্যাবহৃত হতে দেখা যাবে ।
 লেখাটা ২৯ এপ্রিল, ২০১২ সালে  Just Ignite নামের একটা ব্লগে প্রকাশ করেছিলাম। ওইটা অতীত। আমার লেখাগুলো একসাথে থাক।

আজকের দিনটা যদি আজ থেকে দুই বছর আগের এক দিনের মত হত তাহলে বুঝতাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। আমার জীবন ওরকম আগের মত থাকলেই গণ্ডগোল চোখে পড়তো, আজকে পড়ছে না । কিন্তু আব্বুর কাছে আমি বিশাল ঝামেলাময়ী , নির্লিপ্ত জাতের মেয়ে । ঝামেলা করা আমার স্বভাব , উলটাপালটা কাজকর্মে আমার ঝোঁক ।
আব্বুর ধারনা ঘরের ভিতর কি হচ্ছে আমি কিছুই জানি না । ধারনা সঠিক , আমার জানার সময় নাই । গত দুই দিন আমি কি করে কাটিয়েছি এটা বললে হয়ত বোঝা যাবে আমি কত ব্যাস্ত জীবনে ।
গতকাল আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া নিয়ে আব্বু অন্য সবসময়ের মত ঝামেলা করসে । এতে আমি খুব সুখে ছিলাম না , এটা পরে বুঝতে পারসিলো । পারলে ভাল , আমি খুশি , আব্বু অখুশি । আর ঝাড়সে অনেক ভাল মতো ।
দুই বছর আগেও বলত আমি ভেজিটেবল এখন তাই বলে । আর্কিটেকচার পড়া আমার জন্য ভুল হইসে । এটা পড়ার জন্য আজকে আমি বাইরে বাইরে ঘুড়ি , রাতে ক্লাসরুমে(বা স্টুডিও) থাকি , সময় পেলেই ফেসবুক করি , বাবা মায়ের সাথে কথা বলি না । যখন তখন কাজের নামে বাইরে যাই , আগে গাড়ি ছাড়া কোথাও যেতাম না এখন বাসে উঠি । এমন কি, না বলেও চলে যাই । ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট , কত বিপদ , কত কিছুই তো হতে পারে, এইসবের কোন খেয়াল নাই , আরও অনেক কিছু।
দুই বছর আগেও আমি একটু ছোট ছিলাম , এখন আরেকটু ছোট হয়েছি মনে হয় , যত ছোট , তত কম বুঝবা , তত গায়ে কম লাগবে ব্যাপার-স্যাপার , আমি এ বুদ্ধি ধরসি এখন ।
আমি কিছু না বলে , একটু মেজাজ খারাপ করে তার চোখের সামনে থেকে বের হয়ে আসছিলাম ।
আব্বু বলল, “ দীপালি , তোমাকে আমি টোটাল ফ্রিডম দিসি, কিন্তু মাঝে মধ্যে পেপার আর কুরআন পড়বা “
আমি এটা মেনে চলার চেষ্টা করতে চাই কিন্তু পেরে উঠি না ।
তো আমি কি করলাম ?
আমার ছুটি চলতেসে বলা যায় । ঢাকা শহরে গত এক সপ্তাহ ধরে হরতাল । এক বিরধী দলের নেতা নিখোঁজ তাই টানা হরতাল । এই দিকে , বুয়েটের রেজাল্ট দিসে ঠিকই কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার নাম গন্ধ নাই । আমি ভালই আছি আমার বেকার কিন্তু ব্যাস্ত জীবন নিয়ে ।
আমি গত রাতে ঘুমাইসি সাড়ে ১১ টায় , মানে তখন শুয়ে পরসিলাম , আর উঠসি সকাল ১১ টায় । উঠে শাওয়ারে ঢুকে গেসি। বাসায় মেহমান আসছিলো তাদেরকে অ্যাভয়েড করার জন্য বাথরুমে ১ ঘণ্টা কাটাইলাম ।
এর পর আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেসি । আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই । আম্মু আলহাদ করে খিচুরি খেতে বলছিলো , আমি কোন আওয়াজ না করে বের হয়ে আসছি ।
যাই হোক আম্মু ১০০ টাকা গুজে দিতে চাইছিল , আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই , আমি হ্যান্ডস আপ পোজ দিয়ে ঘর থেকে বের হইসি ।
আব্বুকে বাই বলি নাই তখন ।
এরপর , অবনির বাসায় গেলাম , ওখান থেকে বুয়েটে গেসি , এরপর আবার ক্যান্টনমেন্টে আসছি , এই পৌনে ৭ টা বাজে তখন ।
এর পড় বাসার নিচে পার্কে দোলনায় চরসি আধা ঘণ্টা । আরেক বাসার নিচের লাইটে বই পড়সি আরও আধা ঘণ্টা ।
তারপর গেছি কচুখেত । খালিপায়ে ।
ওইখানে যাওয়ার কারন , খালি ডিভিডি কেনা । কোন কারন ছাড়াই আমার ডিভিডি চাই । আর যেই লোকটার কাছ থেকে ওইগুলা কিনব সে একটা বজ্জাত আগে থেকেই জানতাম । এই কারনে আরও গেছি তার কাছে । ঝগড়া করা যাবে জেনে । ঝগড়া করসি। দাম চাইসে ৩০ টাকা ,একটা ডি ভি ডি । আমি তো না কিনে বের হব না ।কি মনে করে চেঁচামেচি করে বের হয়ে আসছি । আবার ঘুরসি , আরেকটা দোকান খোজার জন্য । এক কিলো হেটে হেটে আরেকটা দোকান বের করসি । ৩০ টাকা দিয়ে ২ টা ডিভিডি কিনসি ( যেটা আমার শেষ সম্বল ছিল । আজকে আমি ৭০ টাকার ডাব , ৩০ টাকার সেভেন আপ , ৫০ টাকা ভিক্ষা আর ২০০ টাকা কাদের মামাকে দিয়ে খরচ করসি )
অবশেষে বাসায় আসছি । সরাসরি বাথরুমে গেসি । সেভেন আপ বোতলটা ছিল সাথে , হিমু সমগ্র ও নিসিলাম ভিতরে । শাওয়ারের নিচে দাঁড়ায় সেভেন আপ খাইসী । কিন্তু হিমু পড়ি নাই ।
আর কি বলব দুই বছর আগে এরকম একটা সন্ধ্যা ছিল , আমি ছিলাম গাড়িতে , কোন কোচিং ক্লাস থেকে আসছিলাম । আব্বা চেম্বারে ছিল । আম্মু ও তাই । ঢাকার রাস্তার জ্যামের কারনে ১ ঘণ্টা দেরি হলেও ১০ বার ফোণ আসত আব্বু-আম্মুর কাছ থেকে । রিপোর্ট কার্ড গুলা হাতে নিয়ে আব্বু অঙ্ক করতে বসত , অসীম ইচ্ছা পোষণ করত আমাকে ক্লাসে প্রথম হয়ে দেখার জন্য । পচা মার্ক্স দেখে কয়েকটা শক্ত কথা বলত । এখনও বলে । কতবার কত ফ্রেন্ডের বাসায় যেতে পারি নাই , পারমিশন দেয় নাই বলে ,তার হিসাব নাই । ফোনে কথা বলতে বলতে আব্বা সামনে এসে গেলে ফোন রেখে দিতাম । বন্ধুদের মধ্যে সবার শেষে ( ১৯ বছর বয়সে ) ইন্টারনেট পেয়েছিলাম । আমি এগুলা কেন বলতেসি ?
আরেহ !! শেষ হয় নাই কাহিনী । আমিতো ভুলেই গেসিলাম । যখন খালি পায়ে হেটে হেটে কচুখেত যাচ্ছিলাম তখন দুইটা ছেলে পিছে হাটতেছিলো আর ওয়ানডার করতেছিলো। এক পর্যায়ে অভারটেক করে সামনে আসল দুইজন । একটু পর পর পিছে তাকায় । আমিও কম কি ! ওদের কে ধাওয়া করা শুরু করলাম । ওদের পিছন আর ছাড়ি না । আমি দুইজনের মাঝে নির্লিপ্তের মত হেটে যাচ্ছিলাম , মনে হচ্ছিলো আমি কিছুই জানি না । এটা হাস্যকর ছিল । তারা বেশ ভয় পাইসে । বাসায় এসে অনেক শান্তি পাইসি । আর শুনতে চাও ? একটু পরে আসছি , তখন বলব ।

বই পড়া এবং আমরা সবাই!

আমি কত বাজেভাবে বই মেলায় যেতে চেয়েছিলাম  সেটা একটা প্রশ্ন। আমার যাওয়ার প্রধান কারণ আমি একুশে বইমেলায় যেতে পারব না । ৪ বছর হতে চলল, একুশে বইমেলা মিসড। বাঙ্গালিরা ভালই বইমেলা উদযাপন করে থাকে । যা দেখলাম, আজ পর্যন্ত ঢাকার বইমেলায় প্রচুর মানুষ প্রচুর ভীড়, অনেক নতুন বই, প্রচুর প্রকাশক।  কলকাতায় একি চেহারা। আসল চিত্র কয়জন অনুধাবন করে ? ব্যাপারটা হল, অনেক কম মানুষ বই পড়ে, অনেক কম বাবা মা তাদের বাচ্চাকে গল্পের বই কিনে দেয়। গল্পের বই কিনে দেয়া তো দূরের কথা কতজন বাবা মা এই যুগে বাচ্চাকে গল্প পড়ে শুনায় সেটা বড় প্রশ্ন।
ঢাকায় থাকার সময় এবং পশ্চিমবঙ্গে পড়তে আসার পর আমি দুই প্রজাতির মানুষকে কাছ থেকে  দেখেছি।
১। যারা গল্পের  বই পড়ে
২। যারা  গল্পের বই পড়ে না
প্রথম শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নাই। সে যদি গোগ্রাসে চেতান ভাগত আর ফিফটি সেইডস অফ গ্রে ও পড়ে থাকে তাও সে পড়ে, তাকে ফেলে দেয়া যাবে না।
ভিকারুন্নিসা স্কুলে সম্ভবত দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়কার কথা।   আমি প্রথম খুব কাছ থেকে দ্বিতীয় প্রজাতির মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলাম। বলা বাহুল্য দ্বিতীয় প্রজাতি আজ শুধুই আমার এককালের পরিচিত মানুষ।
একবার কোন বিষয়ের কোচিং ক্লাসে  এক ‘ভাল ছাত্রী, সুন্দরী, ফ্যাশন সচেতন,স্মার্ট(!)’ সহপাঠীর পাশে বসে ছিলাম। কথা শুরু করার বাতিকস্বরূপ আমি কথপকথন শুরু করলাম।
‘ তুমি বইমেলা থেকে কি কি বই কিনলা ?’
আমার দিকে তাকিয়ে কিশোরী  প্রথমে হাসল, এই প্রশ্নে সে একটু অপ্রস্তুত হয়েছে। যাই হোক,  আমি চোখ বড় বড় করে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছি। বলে রাখা ভাল ওইদিন আমার এই প্রশ্ন করার কারণ স্কুলে আমার যারা কাছের বন্ধু ছিল তারা সবাই ইতিমধ্যে বইমেলায় দুইবার ঘুরে এসেছে, না আসলেও আমরা যে সব বই কিনেছি সেগুলা ক্লাসে বসেই পরেছে নাইলে বাসায় নিয়ে গিয়েছে ।আমিও দুইবার গিয়েছি ইতিমধ্যে আর দুইবার যাওয়ার স্বদিচ্ছা আছে, আব্বু আম্মু আমার আর ছোট বোনের লিস্ট মিলিয়ে কমপক্ষে বিশটা এবং সর্বাধিক ৫১ টা বই কেনা হয়েছিল  সেইবারের বইমেলায়।  যার মানে সাত জন বন্ধুর আমার যে গ্রুপ ছিল তারা সবাই বই পড়ত এবং পড়ে, তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনারত ছিলাম বিধায় আমি এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি।
অবশেষে কিশোরী উত্তর দিল, ‘ আমি কোনদিন বইমেলায় যাইনি! কি করে বই পড়ে সবাই, আমি তো হাজার বছর ধরে,  কবর নাটক পড়েই বোওর্ড হয়ে গিয়েছি। ‘
আমি একটু ধাক্কাই খেলাম।
- ‘ তুমি সারাজীবন ঢাকায় থেকেছো না ? তুমি একবারও একুশে বইমেলায় যাও নাই? তুমি স্কুলের টেক্সটবুকের বাইরে  কোন বই পড় নাই ? স্কুল, কোচিং এর পর বাসায় তুমি কর কি ?’
- ‘ কিছু না, টিভি দেখি, ঘুরতে বের হই, ফোনে কথা বলি, বই পড়ার সময় কই ? আর আমার অতো ধৈর্য নেই। কি করে একটা বইয়ের দিকে তাকিয়ে লাইন এর পর লাইন পড়া যায় আই রিয়েলি ডোন্ট গেট ইট!’
আমার কি এই মেয়ের সাথে আর কথা বলা উচিত ?
না ।

কিন্তু আমি ইন্ডিয়া আসার পর এরকম আরেকজনের সন্ধান পাই। ব্যাপারটা একটু বিরক্তিকর তাও বলেই ফেলি। এই মেয়েটা মরিশাস থেকে এসেছে। খুবি অমায়িক, আস্তে ধীরে কথা বলে, ভদ্রতা আর ভালোমানুষি করে একাকার। এই একটা কাজই সে ভাল পারে। আমার আম্মু বলে মাঝে মাঝে বোকা মানুষেরা ভালমানুষ সেজে থাকে, এইটাই তাদের কাছে অস্ত্র।  পাঠ্যপুস্তক ছাড়া তিনি জীবনেও কিছু পড়েন নাই। জ্ঞ্যান  অর্জনের ইচ্ছা তার অনেক কম। কিন্তু সে আমার বন্ধু, এক বছর আমার রুমমেটও ছিল। তাকে আমি গতবছর অনেকটা জোর করে কলকাতা বই মেলা নিয়ে যাই। সে  আমার সাহায্য নিয়ে দুইটা বইও কিনে। আ থাউস্যান্ড স্প্লেনডিড সান্ স- খালেদ হূসেইনি আর বাকি দুইটা রুপকথার গল্পের বই।  পরে তার ধারনা হয় গল্পের বইটার উপর সে আসক্ত হয়ে পরেছে এবং সে আরেক বন্ধুকে সেটা দিয়ে দেয়।

আমার সত্যি মনে হচ্ছিল আমি এক নতুন জীবের সাথে কথা বলছি । ছয়জনের সাথে না বসলে আমি মাঝে মাঝে আনিকা আর স্বর্ণার মাঝে চেয়ারে গিয়ে বসে যেতাম। তারা ভয়ানক পড়ুয়া মানুষ ছিল, আজও আছে। ক্লাসরুমের ক্লাসিক নার্ড আর গীকের এক অনন্য যুগল । তাদেরকে বইয়ের ভিতর মুখ গুজে বসে থাকতে দেখা যেত, ব্রেক টাইমে এক গম্ভীর ভাব ধরে লক্ষ্মী বাচ্চার মত টিফিন খেত, ক্যান্টিন অবধি গিয়ে আবার ফিরেও আসত  সময় মত । তাদের মাঝে বসলে আমি বরাবরই অংক ক্লাসে অংক করতাম, একটা অনুপ্রেরণা আসত তারাতারি শেষ করার। কোচিং এর যদি কোন হোমওারর্ক থাকত ক্লাসে বসে শেষ করতাম। তবে আনিকা আর স্বর্ণা কি সারাদিন পড়াশোনা করত ?
অঙ্ক খাতার উপরে  স্বর্ণা বিশ্বসাহিত্য কেদ্র থেকে নেয়া বইগুলো রেখে পড়ত।  আনিকা ও একই কাজ করত, একটা না একটা বই তার বই বা খাতার উপরে খোলা থাকত।
বাংলাদেশে অবশ্য দুইধরনের পড়ুয়া আছে।
১। যারা হুমায়ুন আহমেদ এর বই পড়ে থাকে
২। যারা হুমায়ুন আহমেদ এবং অন্যান্য বই ও পড়ে থাকেন।

আমার মনে আছে ক্লাস এইট না নাইন এ থাকার সময় আমি আর আদিবা মিলে সিডনি শেলডনের ব্লডলাইন বইটা একসাথে, একদিনে পড়ে শেষ করেছিলাম। পিছনের বেঞ্চে দুইজন পাশাপাশি বসে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১.৩০ টা অব্ধি টানা। এই বইটা পড়ার  পিছনেও একটা কাহিনী আছে।
আমি আগের বৃহস্পতিবার ব্লাডলাইন বাসায় নিয়ে গিয়েছিলাম। নওশিনের বই, রবিবার আদিবা নিবে পড়ার জন্য। অষ্টম-নবম শ্রেণীর যথোপযুক্ত পাঁকা বাচ্চা হওয়ায় আমরা হাতের কাছে অ্যাডালট ফিকশন পেলেই খুশি হয়ে যেতাম। সিডনি শেলডন শুরু করার জন্য ভাল, হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের মত তারাতারি পড়ে শেষ করা যায়, অত মাথাও খাটাতে হয় না। বাসায় যে আমার এক পড়ুয়া আম্মা আছে তার কথা তখন মনে পড়ে নাই। ব্যাগ থেকে টিফিন বক্স বের করার সময় আম্মু বইটা পেল আর পরা শুরু করে দিল। একরাতে আম্মুর পড়া শেষ আর পরেরদিন সকালে  আমার বকা খাওয়া শুরু। সকালে আম্মুর প্রথম কথা, ‘ এই বই কার ? ‘
‘নওশিনের।’
‘ এইটা তোমার পড়ার বয়স হয় নাই, তুমি এটা পরের দিন ফেরত দিয়ে দিবা’
আমি মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে উত্তর দিচ্ছি
‘ ঠিকাছে।‘
আম্মু এইটুকুতেই থেমে যাবে ? হাহ!
‘ বইয়ের পিছনের অংশটা পরলেও তো বোঝা যায় এইটা কি ধরনের বই! এইসব পড়ার অভ্যাস বানাইসে। ‘
এটা অনেক্ষন ধরে চলে, শেষে আব্বুকে বলে আম্মু তার রাগের সমাপ্তি ঘটায়।
এই কারণে রবিবার আমি আর আদিবা মিলে বইটা শেষ করি। কই ক্লাসওয়ার্ক, কই লেকচার সব একদিকে আমাদের বইপড়া আরেকদিকে।
 এবার মুম্বাই আর  গোয়া ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল । বিলি এর আগে ইন্ডিয়ান রেইলওয়ের সাথে সুদীর্ঘ ভ্রমণ করেছে যেটা আমার কাছে একদমই নতুন। সবকিছুর অভিজ্ঞতা থাকা ভাল।শীতকালে ভ্রমণ করব তাই আমরা যেই টিকিট কনফার্ম পেয়েছি সেটাই কেটেছি।  দুইজন মেয়ে স্লিপার ক্লাসে চড়ে কলকাতা  থেকে মুম্বাই যাচ্ছে । এইদিকে বিলি মঙ্গোলিয়ান আর আমি বাংলাদেশী । পুরো কম্পার্ট্মেন্টে (লিখে দিয়ে বলতে পারি)  আমি আর বিলি শুধু বই পরেছিলাম। ৩৭ ঘণ্টার সেই অতিরিক্ত লম্বা ট্রেন ভ্রমণে আমি হয়ত মরেই যেতাম যদি ‘ইনফারনো-ড্যান ব্রাউন’  বইটা না থাকত। বিলি পড়ছিল  নিঃসঙ্গতার ১০০ বছর- গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকেজ। আমাদের বগি থেকে পাশের দুইটা বগিো দেখা যাচ্ছিল, সেখানে বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিল। আমাদের মত স্টুডেন্ট ছিল অনেকে, আঙ্কেল ছিলেন কয়েকজন যারা সবাই  ফেরিওয়ালার কাছ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছিলেন, এক ছোট ভাই তার বড় বোনকে শ্বশুর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসছিল, কেও তার পরিবার নিয়ে যাচ্ছিল। ব্যাপারটা হল, ট্রেনে তারা হয় শুধু খাবে, ঘুমাবে, ফোনে কথা বলবে , ফেসবুকের পেইজ বার বার দেখবে, ওয়াটসঅ্যাপ এ চ্যাট করবে, গান শুনবে, ভিডিও দেখবে কিন্তু বই কেও পড়বে না। একটা বই নিজের কাছে রাখার বা পড়ার চিন্তাও হয়ত তাদের মাথায় কখনও আসে না। যেই বোনটা শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিল সে ডিগ্রি পাস করা মেয়ে, অধিকাংশ সময় সে জানালার বাইরে উদাস চোখে তাকিয়ে পার করে দিয়েছে। হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে এরকম প্রজাতিরও  কমতি ছিল না । জেনারেল স্লিপার ক্লাসে যার খুশি সেই ঢুকছে, বসছে। এক এর পর এক ফেরিওয়ালা, চাট, সিঙ্গারা, বিস্কুট, পানি , দই , মুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করতে আসছে, বইয়ের ফেরিওয়ালা একটাও নেই!

গোয়া থেকে ফেরত আসার সময় আমরা  থার্ড এসিতে টিকিট পেয়েছিলাম। পুরা একমাস লেগেছিল কনফার্ম হতে। আর যাই হোক ভাগ্যের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। জানুরারীর প্রথম দিন তাই বোঝা যাচ্ছে থারটি ফার্স্ট পালন করে দলে দলে বিদেশী পর্যটকেরা এখন পরবর্তী গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। মাডগাও স্টেশনে নানা দেশের নানা বর্নের মানুষে ভর্তি। ভাসকো দা গামা থেকে হাওড়া যাওয়ার এই একটাই সরাসরি ট্রেন। আমাদের কম্পার্ট্মেন্টে তো বটেই পাশের প্রায় সবগুলোতেই ৩-৪ জন বিদেশী পর্জটক ছিল। মজার ব্যাপার হল সবার হাতে বই ছিল। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আমরা ফিনল্যান্ড, জার্মানি, রাশিয়া, ইংল্যান্ড থেকে আগত বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি যারা সবাই গত রাতের নতুন বর্ষ উদযাপনের পর ক্লান্ত, আপাতত বই পরছে , ঘুম পেলে ঘুমিয়ে যাবে। তারা ঘুম থেকে উঠার পরও বই পরা অব্যাহত রেখেছিল।
অপরদিকে আমাদের সাথে দুটি ভারতীয় পরিবার ভ্রমণ করছিল। সবচেয়ে কাছের পরিবারটিতে বাবা-মা আর তাদের ৪ বছরের ছেলে। বেচাড়া বাচচাটা  প্রচুর কথা বলে। ক্লাসিক ইন্ডিয়ান রেইলে ভ্রমণকারীদের মত প্রত্যেক ফেরিওয়ালা কে থামিয়ে থামিয়ে বাবা( যিনি বিশাল ভুরীওয়ালা বাঙ্গালী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) তার ছেলেকে ভাল খারাপ আজে বাজে সব কিছুই খায়িয়ে যাচ্ছেন। বাচ্চাটা অনেক জোড়ে কথা বলে তাই আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটেছিল। ঘুম থেকে উঠে যথারীতি আমরা কিছু খেয়ে আবার বই পড়তে শুরু করেছি। এবার  বিলি আর আমার বঈয়ের  অদল বদল হয়েছে।
একটা বাচ্চা যে ৩৬ ঘণ্টা ট্রেনে সে অস্থির হবেই, বোওর্ড হওয়া বাধ্যতামূলক। তার  শিক্ষিত বাঙালি বাবা মা অরিত্রর( বাচ্চাটার নাম) জন্য  প্লে স্টেশন পোর্টেবল স্ট্যান্ডবাই রেখেছ, একটা রঙ করার বই আর প্যাস্টেল হাতের কাছেই। কিন্তু ছোট মানুষ নিচের বার্থ থেকে মই বেয়ে উপরের বার্থে উঠা আর নামাতে বেশী মজা পাচ্ছে । বার বার আমার আর বিলির কাছে এসে জিগ্যেস করছে আমরা কি পড়ছি। পিএসপি এর চেয়ে তার বা মায়ের স্মার্টফোনের গেইমে বেশী আগ্রহ। এক দিন কেটে যাওয়ার পর তার কান্না! সেও বই পড়বে, অথবা তাকে পড়ে শুনাতে হবে। বেচারা বাবা-মা অনেক করে বুঝানোর চেষ্টা করছে এটা কর ওটা কর , বই তো তাদের কাছে নেই। তারা নিজেরাও পড়ে না বাচ্চা পড়বে কি! পড়ে শুনানোর ও আইডিয়া তাদের এখনও আসে নাই।
ওইদিন আমি অরিত্রর বাবা- মা কে গল্প শুনালাম।
আমার যখন ২৬ দিন বয়স আম্মু আব্বু আমার জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েছে । তারা নতুন মা – বাবা,  আমার জন্য যাবতীয় দরকারি অদরকারী জিনিস যেমন বেবি টয়লেট্রিজ, সব রঙের জামা, জামার সাথে মিল করে জুতা, ব্যান্ডস ইত্যাদি কেনা শেষ। আসার পথে তাদের মনে হল কিছু একটা বাকি আছে। কি জানি কিনে নাই। শেষ মেষ তারা একগাদা বই কিনে বাসায় ফিরেছিল। আম্মু যখন এই কাহিনী আমাকে বলেছিল তখন সে বিশাল একতা হাসি দিয়ে দুই হাত ছড়িয়ে আমাকে দেখিয়ে বলেছিল ,
‘এত্তোগুলা!’

আমার মনে হল এতে তারা কিছু বুঝে নাই। তাই আমি আবার বলা শুরু করলাম। আমার ছোট বোনের বয়স যখন ৩ কি চার , আব্বু তাকে প্রতিরাতে গল্পর বই পড়ে শুনাতো। বই পড়া শেষ হয়ে গেলে আব্বু বানিয়ে বানিয়ে রাক্ষসের ভাই খোক্ষশে গল্প বলত। ওর যখন ৪ বছর বয়স, ছোট(আমার বোনকে আমি ‘ছোট’ বলে ডাকি) গল্পের বই পড়তে পারত না কিন্তু বই তার মুখস্ত, বইয়ের পাতা উলটিয়ে উলটিয়ে হুবুহু পড়ে যাচ্ছে। ওই বছরই ছোট জাতীয় শিশু পরস্কার প্রতিযগিতায় গল্প বলে তৃতীয় হয়েছিল । পরবর্তী বছরগুলোতে সে ‘ আমি তপু’ প্রতিদিন একবার করে পড়ত। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সব বই তার সংগ্রহে থাকতে হবে এমন একটা নেশা তৈরী হল। আব্বু হাশিমুখে এই আবদার পরিপূর্ণ করে যাচ্ছে।  
এইবার বেচারা মা একটু উৎসাহিত হল, তার ছেলের বাবা এতক্ষণ অন্য কোথাও ছিল, তাকে এই কাহিনী বলল। লোকটার বেরসিক উত্তর ,’বাহ!’

আজকে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখাটা পড়ে, অনেকদিন আগে লেখা আমার এই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সাহস পেলাম। আজকে যখন আমার ছোট ভাই আমাকে ফোন করে বলে , দিদি আমি হ্যারি পটার এন্ড ফিলসোফার্স স্টোন পড়ে শেষ করেছি, আমি খুব গর্বিত হই। যদিও আমার আম্মু তেমন কিছু বলে না, ভাবসাব এরকম যে ,’এটা আর এমন কি! খুব স্বাভাবিক ব্যাপার!’

বড় বোনদের চাপাবাজি।



গুল্লুর দাঁতে ব্যথা, এই নিয়ে বাসার সবাই শঙ্কিত । আম্মু আমার ঘরে গুল্লু কে নিয়ে বসে আছে । আমারো আজকে মাথার বাম পাশে ব্যাথা । আমার একটা  পিতলের চুলের কাটা আছে  , ওইটার  মাথাটা  একটা গোল আংটার মত । আমি মাথায় বাড়ি  দিচ্ছি গোল দিকটা দিয়ে , এতে যদি আমার মাথা ব্যাথা কমে কিন্তু গুল্লু ক্রমাগত কেঁদেই  যাচ্ছে । নয় বছরের গুল্লুর দাঁত ব্যাথা বেশি প্রবল না আমার মাথা ব্যাথা তা আমি অনুমান করতে পারছি না । আমার ইচ্ছা করছে চুলের কাঁটাটা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দেই, বাম পাশের যেখানে ব্যাথা করছে সেই পয়েন্টে সুঁইয়ের মত করে একদম মগজের ভিতরে। করা সম্ভব না কিন্তু তাও কপালের উপর  লাগিয়ে- ধরে বসে আছি ।
গুল্লুর কান্না বাড়ছে । আম্মু এর মধ্যে গরম পানিতে লবন গুলিয়ে এনেছে , এটা দিয়ে কুলি করতে হবে । গুল্লু একবার মুখে নিল আর কুলি করা পানি  বারান্দায় ফেলে দিল । আমি বললাম বাইরে ফেলতে, না, তার বারান্দার মেঝেতেই ফেলতে হবে । এভাবে দুইবার করল । রাগ উঠছিল আমার । সে প্যান্ট পরে নাই আজকে । আম্মুর একটা কামিজ পরে আছে , সেইটা মরু অঞ্চলের আলখাল্লা হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায় ( কারুকাজ বাদে ) । গুল্লু কে দেখে যে কেও মজা পাবে, যা পরে আছে তা বড়ই আরামদায়ক , ঢিলা-ঢালা , ভেন্টিলেটেড। কান্না থামাবে না বলে যেহেতু সে আজকে সিধান্ত নিয়েই নিয়েছে , আম্মু শুরু করল গল্প বলা ।
আমি যখন অনেক ছোট , তখন একবার ছুটিতে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম । সেইবার সব চাচাতো- ফুফাতো  ভাই বোনেরা দাদার বাড়িতে ছিল ।  কোন গরমের বা শীতের ছুটি ছিল মনে হয় । শাহজাহান ভাই, রঞ্জু ছিল, বেদানা আপা তো শ্বশুর বাড়িতে থাকত তাই  সে তার ছেলে মেয়েদের নিয়ে এসেছিল । এখন ঘটনা হল সবাই যেখানে হই চই করছে আমার সেখানে দাঁতে ব্যাথা  আর গালের একপাশ ফুলে ঢোল হয়ে আছে । বেদানা আপা আমাকে বলল সে আমাকে এক বান্ধবীর বাড়ি নিয়ে যাবে ,ওই বান্ধবী দাতের পোকা সরাতে পারে । আমিতো দাতের ব্যথ্যায় কুপকাত , এইটা শুনে মনে মনে একটু খুশি হলাম কিন্তু আহা উহু করলাম তার সামনে  । বেদানা আপা আমাকে নিয়ে রওনা দিল । জানালা দিয়ে শাহজাহান ভাই বলল ।‘ আই তোমরা কই যাও ? ‘
বেদানা আপা বলল ,  ‘ আমি শম্পাকে নিয়ে যাই , ওর দাতের পোকা ফেলাইতে ।‘
‘আই ওইসব কোন কাজে আসবে না ,  তোমরা যাইয়ো না ।'
বেদানা আপা শুনল না , আমিও বেদানা আপার দলেই ছিলাম , মনে হচ্ছিলো শাহজাহান ভাই আমার ভাল চান না । শুধু বেদানা আপাই চান ।
আমরা গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাটছি তো হাটছি । আর সেই বাড়ি আসে না । যাওয়ার পথে একটা  বুড়া  লোককে দেখলাম যার মাথার চুল বড় আর তাতে  বিদ্ঘুটে জট। আমি ভাবলাম সে হয়ত কোন পীর জাতীয় কেও । সালাম দিলাম । বেদানা আপা কোন গ্রায্যই করল না । উল্টা বলল , 'এই লোকটা গোসল করে না তাই মাথায় জট '
আমি সেইদিন একটা জিনিশ শিখলাম যে গোসল না করলে চুলে জট হয় ।
পথে অনেকেই আমাদের দেখে জিজ্ঞেশ করছিল,' আই কে যায় রে ?' বেদানা আপা তো এই গ্রামেরই মেয়ে , পরে বুঝলাম তারা জানতে চায় আমি কে ।
আপা উত্তর দিল,'বি এস সি সাহেবের মেয়ে, ছোট কাকার মেয়ে এইটা ।‘ তোমাদের নানা ওই গ্রামের প্রথম গ্রয়াজুয়েট , তাই সবাই তাকে বি এস সি সাহেব বলত । সেইটা কখনো শুনতে ‘বিসচি’ মনে হত ।
আমরা অবশেষে যখন বেদানা আপার বান্ধবীর বাড়িতে পৌঁছলাম তখন আমার পা ব্যথায় টন টন করছে । একজন গম্ভীর চেহারার মহিলা আসল সামনে , হাসি দিল ছোট্ট করে । বেদানা আপা আমাকে দেখিয়ে বলল , ‘ ওর দাতের পোকা ফেলাতে নিয়ে আসছি ।'
গম্ভীর মহিলা বলল , ‘ এর জন্য একশ একটা দূর্বা ঘাশ লাগবে । বসো, আসতেসি।'
এর পর আমাদের বসিয়ে রেখে সে দূর্বা ঘাস তুলতে গেল , গুনে গুনে একশ একটা তুলল সে । দেরি হচ্ছিল বলে আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম । এক সময় সে আসল । ঘাস গুলা দিয়ে একধরনের  বল বানিয়ে এনেছে সে । এখন আমাকে ঘাসের বলের একটু উপরে মুখে রাখতে বলল আর সে শুরু করল দোয়া পড়া । ব্যাস কিছুক্ষন পর দেখা গেল ঘাস থেকে একগাদা শাদা শাদা পোকা বের হয়ে আসছে । একশময় পোকা পরা শেষ হলো আর আমাদের বলা হলো ,’পোকা আর নাই ।‘
আমরা খুশি মনে ফেরত আসলাম । তাকে বেদানা আপা টাকা পয়সা কেন দিল না তার কারন হল সে আপার বান্ধবী এবং ঘুড়িয়ে পেচিয়ে একধরের আত্মীয় । 
আমাদের বাড়িতে ফেরত আসার পর যখন আমি এই গল্প শাহজাহান ভাইকে বললাম তিনি তো হেসেই খুন । বলে কি ওইগুলা নাকি পাটের পোকা আর আমাদের বোকা বানানো হয়েছে । বেদানা আপা তার বড় ভাইকে দুই তিনটা বকা দিয়ে ভিতরে চলে গেল আমি তার পিছন পিছন গেলাম কারন আমার মনে হচ্ছিল শাহজাহান ভাই উল্টা পাল্টা কথা বলছেন । তার চেয়ে বেদানা আপা অনেক ভাল।
ওইদিন আমি আরেকটা জিনিশ শিখেছিলাম , শাহজাহান ভাই যেহেতু এগ্রিকালচার নিয়ে পড়ত ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাই  উনি জানতেন পাটের পোকা কিরকম ,কত প্রকার ও কি কি ।  আমি যখন বোটানি নিয়ে পরা শুরু করলাম তখন আমিও ভালোভাবে  জানতে পারলাম । এই হল আমার দাঁতের ব্যাথার কাহিনী । আমার এখনও মনে আছে । দেখলা ?

গুল্লু আম্মু গল্প শুনতে শুনতে কান্না থামিয়ে দিয়েছে , আমার মনে হল মাথা ব্যাথা চলে গেছে ।

২। এখন একটা জিনিশ আমি বুঝলাম তা হলো , ছোট ভাই বোনদের দাঁতে ব্যাথা হলে বড় ভাই বোনেরা মুখ্য ভুমিকা পালন করে । আম্মুর কাহিনি অন্তত ৩৬-৩৭ বছর আগের । আজকের দিনে আমার মত অকম্মা বোন কি করতে পারে তার ভাইয়ের দাঁতে ব্যাথা হলে ? আমার কাছে টাকা থাকলে তখনই ডাক্তার এর কাছে নয়ে যেতাম । একটু বেশি ভাল হলে লবন গরম পানি আমিই নিয়ে আসতাম । আমি কি করলাম ?
শুরু করলাম জ্ঞ্যন দেয়া  । ‘ গুল্লু সোনা , আমার গুটুলি গুলয, আমার ছোট্ট ভাইয়াটা , আমার বেস্ট গুল্লু ইন দা ওয়ার্ল্ড ! দেখো বেইবি তুমি প্রতিদিন দাত ব্রাশ করতে চাও না তাই এরকম হল । কালকে থেকে কেও বলার আগেই ব্রাশ করবে । ঠিক আছে ? এরকম আর হবে না যদি তুমি দিনে দুই তিন বার ব্রাশ কর । বুঝলা সোনা ? ‘
অনেক তেল মারলাম , আমি এইসব খুব পারি ।
এর পর আমার দাতের ব্যাথায় মরণাপন্ন ভাই বলল, 'তোমার ল্যাপির পাসওয়ার্ড দাও।' তার আবদার করার একটা ভঙ্গি আছে যার নাম পাপ্পি ডগ ফেইস! সে এভাবে আবদার করল যে ৫ সেকেন্ডের জন্য আমার মনে হল অর পুরা দাত ব্যাথার কাহিনি শুধু লাপটপে আনিমে দেখার জন্য। এর মধ্যে আম্মু বলল , ‘ দাও না জয়ি , ব্যাথাটা একটু ভুলে থাকবে । ‘
দিলাম, কি আর করা!
এর মধ্যে সে দেখল ঘুরল , আব্বুর সাথে ধস্তাধস্তি করল , দাত ব্রাশ করতে গিয়ে আম্মুর কামিজটা ভিজালো । এখনো  তার দাঁত ব্যাথা কমে নাই । খালি গায়ে ঘুমানোর চেষ্টা চলছে । ব্যাথা এত প্রকট হল যে আম্মু ঠিক  করল ওকে প্যারাসিটামল দিবে । কিন্তু না খেয়ে তো আর দেয়া যাবে না । আমি গেলাম গুল্লুর কাছে ।
‘ ভাইয়া , তুমি কি খাবা ? পাস্তা ? বানাব ? ‘
‘ না ( খুব নিচু স্বরে) । সকালে আম্মু খাওায়সিল, ওইটার জন্যই ব্যাথা বাড়সে । উউউউ...’
‘তাহলে কর্ন ফ্লেক্স খাবা ? দুধ দিয়ে ? ‘
‘ না ওইটাতে বাদাম আছে , অই বাদাম গুলার জন্যই আমার দাঁতে এত ব্যাথা !’
‘ তাইলে আমি তোমার জন্য স্ক্রাম্বল্ড এগ বানায় আনি? ‘
‘এটা কি ? ‘
‘ এটা না মাস্টার শেফ এ বানিয়েছিল ‘
‘তাই ?’
‘ হা । এমন কি বার্নি স্টিন্সনের মা ও বানিয়েছিল ! ‘
‘ও! তাহলে বানাও ‘
নামটা ইংরেজি আর আহামরি শুনালেও এটা একধরনের পেয়াজ কাচামরিচ ছাড়া দিম পোচ করার নিয়ম । রান্না ঘরে গেলাম , দুইটা ডিম নিলাম , ফাটালাম , তাওয়া অনেক গরম করলাম , আগুন বন্ধ করলাম , এক চামচ মাখণ দিলাম তাওয়ায়, এখন একটু লবন দিয়ে ডিম ঢাল্লাম , পাগলের মত নাড়লাম , ব্যাস ! রেডি। গিয়ে গুল্লুকে দিলাম যেন কি না কি বানিয়ে ফেলেছি নাম তার  স্ক্রাম্বল্ড এগ!
গুল্লু খুব খুশি ! দিদি মাস্টার শেফ এর রেসিপি বানাতে পারে , আর ওর  জন্য বানিয়ে এনেছে । যে বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য আমার বাসার মানুষ দের দুশচিন্তার শেষ নাই  সেই বাচ্চা এখন নিজে নিজে খেল আর আমাকে থ্যাঙ্ক ইউ বলল । পেট ভরেছে , এখন তিনি ওষুধ খেতে পারবেন । আম্মু এনে খাওয়ালো । তিনি খুশি মনে ঘুমাতে গেলেন ।
একটা ব্যপার সত্যি , দুই ভিন্ন যুগের বড় বোন হলেও ! তারা চাপাবাজির সহায়তা নিয়ে থাকে ছোট ভাই বোনদের খুশি রাখার জন্য ।