এখানে কিছু বিশেষ জায়গায় “ছ” কে “স” অথবা ইংরেজি “s” এর মত ব্যাবহৃত হতে দেখা যাবে ।
লেখাটা ২৯ এপ্রিল, ২০১২ সালে Just Ignite নামের একটা ব্লগে প্রকাশ করেছিলাম। ওইটা অতীত। আমার লেখাগুলো একসাথে থাক।
আজকের দিনটা যদি আজ থেকে দুই বছর আগের এক দিনের মত হত তাহলে বুঝতাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। আমার জীবন ওরকম আগের মত থাকলেই গণ্ডগোল চোখে পড়তো, আজকে পড়ছে না । কিন্তু আব্বুর কাছে আমি বিশাল ঝামেলাময়ী , নির্লিপ্ত জাতের মেয়ে । ঝামেলা করা আমার স্বভাব , উলটাপালটা কাজকর্মে আমার ঝোঁক ।
আব্বুর ধারনা ঘরের ভিতর কি হচ্ছে আমি কিছুই জানি না । ধারনা সঠিক , আমার জানার সময় নাই । গত দুই দিন আমি কি করে কাটিয়েছি এটা বললে হয়ত বোঝা যাবে আমি কত ব্যাস্ত জীবনে ।
গতকাল আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া নিয়ে আব্বু অন্য সবসময়ের মত ঝামেলা করসে । এতে আমি খুব সুখে ছিলাম না , এটা পরে বুঝতে পারসিলো । পারলে ভাল , আমি খুশি , আব্বু অখুশি । আর ঝাড়সে অনেক ভাল মতো ।
দুই বছর আগেও বলত আমি ভেজিটেবল এখন তাই বলে । আর্কিটেকচার পড়া আমার জন্য ভুল হইসে । এটা পড়ার জন্য আজকে আমি বাইরে বাইরে ঘুড়ি , রাতে ক্লাসরুমে(বা স্টুডিও) থাকি , সময় পেলেই ফেসবুক করি , বাবা মায়ের সাথে কথা বলি না । যখন তখন কাজের নামে বাইরে যাই , আগে গাড়ি ছাড়া কোথাও যেতাম না এখন বাসে উঠি । এমন কি, না বলেও চলে যাই । ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট , কত বিপদ , কত কিছুই তো হতে পারে, এইসবের কোন খেয়াল নাই , আরও অনেক কিছু।
দুই বছর আগেও আমি একটু ছোট ছিলাম , এখন আরেকটু ছোট হয়েছি মনে হয় , যত ছোট , তত কম বুঝবা , তত গায়ে কম লাগবে ব্যাপার-স্যাপার , আমি এ বুদ্ধি ধরসি এখন ।
আমি কিছু না বলে , একটু মেজাজ খারাপ করে তার চোখের সামনে থেকে বের হয়ে আসছিলাম ।
আব্বু বলল, “ দীপালি , তোমাকে আমি টোটাল ফ্রিডম দিসি, কিন্তু মাঝে মধ্যে পেপার আর কুরআন পড়বা “
আমি এটা মেনে চলার চেষ্টা করতে চাই কিন্তু পেরে উঠি না ।
তো আমি কি করলাম ?
আমার ছুটি চলতেসে বলা যায় । ঢাকা শহরে গত এক সপ্তাহ ধরে হরতাল । এক বিরধী দলের নেতা নিখোঁজ তাই টানা হরতাল । এই দিকে , বুয়েটের রেজাল্ট দিসে ঠিকই কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার নাম গন্ধ নাই । আমি ভালই আছি আমার বেকার কিন্তু ব্যাস্ত জীবন নিয়ে ।
আমি গত রাতে ঘুমাইসি সাড়ে ১১ টায় , মানে তখন শুয়ে পরসিলাম , আর উঠসি সকাল ১১ টায় । উঠে শাওয়ারে ঢুকে গেসি। বাসায় মেহমান আসছিলো তাদেরকে অ্যাভয়েড করার জন্য বাথরুমে ১ ঘণ্টা কাটাইলাম ।
এর পর আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেসি । আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই । আম্মু আলহাদ করে খিচুরি খেতে বলছিলো , আমি কোন আওয়াজ না করে বের হয়ে আসছি ।
যাই হোক আম্মু ১০০ টাকা গুজে দিতে চাইছিল , আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই , আমি হ্যান্ডস আপ পোজ দিয়ে ঘর থেকে বের হইসি ।
আব্বুকে বাই বলি নাই তখন ।
এরপর , অবনির বাসায় গেলাম , ওখান থেকে বুয়েটে গেসি , এরপর আবার ক্যান্টনমেন্টে আসছি , এই পৌনে ৭ টা বাজে তখন ।
এর পড় বাসার নিচে পার্কে দোলনায় চরসি আধা ঘণ্টা । আরেক বাসার নিচের লাইটে বই পড়সি আরও আধা ঘণ্টা ।
তারপর গেছি কচুখেত । খালিপায়ে ।
ওইখানে যাওয়ার কারন , খালি ডিভিডি কেনা । কোন কারন ছাড়াই আমার ডিভিডি চাই । আর যেই লোকটার কাছ থেকে ওইগুলা কিনব সে একটা বজ্জাত আগে থেকেই জানতাম । এই কারনে আরও গেছি তার কাছে । ঝগড়া করা যাবে জেনে । ঝগড়া করসি। দাম চাইসে ৩০ টাকা ,একটা ডি ভি ডি । আমি তো না কিনে বের হব না ।কি মনে করে চেঁচামেচি করে বের হয়ে আসছি । আবার ঘুরসি , আরেকটা দোকান খোজার জন্য । এক কিলো হেটে হেটে আরেকটা দোকান বের করসি । ৩০ টাকা দিয়ে ২ টা ডিভিডি কিনসি ( যেটা আমার শেষ সম্বল ছিল । আজকে আমি ৭০ টাকার ডাব , ৩০ টাকার সেভেন আপ , ৫০ টাকা ভিক্ষা আর ২০০ টাকা কাদের মামাকে দিয়ে খরচ করসি )
অবশেষে বাসায় আসছি । সরাসরি বাথরুমে গেসি । সেভেন আপ বোতলটা ছিল সাথে , হিমু সমগ্র ও নিসিলাম ভিতরে । শাওয়ারের নিচে দাঁড়ায় সেভেন আপ খাইসী । কিন্তু হিমু পড়ি নাই ।
আর কি বলব দুই বছর আগে এরকম একটা সন্ধ্যা ছিল , আমি ছিলাম গাড়িতে , কোন কোচিং ক্লাস থেকে আসছিলাম । আব্বা চেম্বারে ছিল । আম্মু ও তাই । ঢাকার রাস্তার জ্যামের কারনে ১ ঘণ্টা দেরি হলেও ১০ বার ফোণ আসত আব্বু-আম্মুর কাছ থেকে । রিপোর্ট কার্ড গুলা হাতে নিয়ে আব্বু অঙ্ক করতে বসত , অসীম ইচ্ছা পোষণ করত আমাকে ক্লাসে প্রথম হয়ে দেখার জন্য । পচা মার্ক্স দেখে কয়েকটা শক্ত কথা বলত । এখনও বলে । কতবার কত ফ্রেন্ডের বাসায় যেতে পারি নাই , পারমিশন দেয় নাই বলে ,তার হিসাব নাই । ফোনে কথা বলতে বলতে আব্বা সামনে এসে গেলে ফোন রেখে দিতাম । বন্ধুদের মধ্যে সবার শেষে ( ১৯ বছর বয়সে ) ইন্টারনেট পেয়েছিলাম । আমি এগুলা কেন বলতেসি ?
আরেহ !! শেষ হয় নাই কাহিনী । আমিতো ভুলেই গেসিলাম । যখন খালি পায়ে হেটে হেটে কচুখেত যাচ্ছিলাম তখন দুইটা ছেলে পিছে হাটতেছিলো আর ওয়ানডার করতেছিলো। এক পর্যায়ে অভারটেক করে সামনে আসল দুইজন । একটু পর পর পিছে তাকায় । আমিও কম কি ! ওদের কে ধাওয়া করা শুরু করলাম । ওদের পিছন আর ছাড়ি না । আমি দুইজনের মাঝে নির্লিপ্তের মত হেটে যাচ্ছিলাম , মনে হচ্ছিলো আমি কিছুই জানি না । এটা হাস্যকর ছিল । তারা বেশ ভয় পাইসে । বাসায় এসে অনেক শান্তি পাইসি । আর শুনতে চাও ? একটু পরে আসছি , তখন বলব ।
লেখাটা ২৯ এপ্রিল, ২০১২ সালে Just Ignite নামের একটা ব্লগে প্রকাশ করেছিলাম। ওইটা অতীত। আমার লেখাগুলো একসাথে থাক।
আজকের দিনটা যদি আজ থেকে দুই বছর আগের এক দিনের মত হত তাহলে বুঝতাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। আমার জীবন ওরকম আগের মত থাকলেই গণ্ডগোল চোখে পড়তো, আজকে পড়ছে না । কিন্তু আব্বুর কাছে আমি বিশাল ঝামেলাময়ী , নির্লিপ্ত জাতের মেয়ে । ঝামেলা করা আমার স্বভাব , উলটাপালটা কাজকর্মে আমার ঝোঁক ।
আব্বুর ধারনা ঘরের ভিতর কি হচ্ছে আমি কিছুই জানি না । ধারনা সঠিক , আমার জানার সময় নাই । গত দুই দিন আমি কি করে কাটিয়েছি এটা বললে হয়ত বোঝা যাবে আমি কত ব্যাস্ত জীবনে ।
গতকাল আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া নিয়ে আব্বু অন্য সবসময়ের মত ঝামেলা করসে । এতে আমি খুব সুখে ছিলাম না , এটা পরে বুঝতে পারসিলো । পারলে ভাল , আমি খুশি , আব্বু অখুশি । আর ঝাড়সে অনেক ভাল মতো ।
দুই বছর আগেও বলত আমি ভেজিটেবল এখন তাই বলে । আর্কিটেকচার পড়া আমার জন্য ভুল হইসে । এটা পড়ার জন্য আজকে আমি বাইরে বাইরে ঘুড়ি , রাতে ক্লাসরুমে(বা স্টুডিও) থাকি , সময় পেলেই ফেসবুক করি , বাবা মায়ের সাথে কথা বলি না । যখন তখন কাজের নামে বাইরে যাই , আগে গাড়ি ছাড়া কোথাও যেতাম না এখন বাসে উঠি । এমন কি, না বলেও চলে যাই । ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট , কত বিপদ , কত কিছুই তো হতে পারে, এইসবের কোন খেয়াল নাই , আরও অনেক কিছু।
দুই বছর আগেও আমি একটু ছোট ছিলাম , এখন আরেকটু ছোট হয়েছি মনে হয় , যত ছোট , তত কম বুঝবা , তত গায়ে কম লাগবে ব্যাপার-স্যাপার , আমি এ বুদ্ধি ধরসি এখন ।
আমি কিছু না বলে , একটু মেজাজ খারাপ করে তার চোখের সামনে থেকে বের হয়ে আসছিলাম ।
আব্বু বলল, “ দীপালি , তোমাকে আমি টোটাল ফ্রিডম দিসি, কিন্তু মাঝে মধ্যে পেপার আর কুরআন পড়বা “
আমি এটা মেনে চলার চেষ্টা করতে চাই কিন্তু পেরে উঠি না ।
তো আমি কি করলাম ?
আমার ছুটি চলতেসে বলা যায় । ঢাকা শহরে গত এক সপ্তাহ ধরে হরতাল । এক বিরধী দলের নেতা নিখোঁজ তাই টানা হরতাল । এই দিকে , বুয়েটের রেজাল্ট দিসে ঠিকই কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার নাম গন্ধ নাই । আমি ভালই আছি আমার বেকার কিন্তু ব্যাস্ত জীবন নিয়ে ।
আমি গত রাতে ঘুমাইসি সাড়ে ১১ টায় , মানে তখন শুয়ে পরসিলাম , আর উঠসি সকাল ১১ টায় । উঠে শাওয়ারে ঢুকে গেসি। বাসায় মেহমান আসছিলো তাদেরকে অ্যাভয়েড করার জন্য বাথরুমে ১ ঘণ্টা কাটাইলাম ।
এর পর আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেসি । আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই । আম্মু আলহাদ করে খিচুরি খেতে বলছিলো , আমি কোন আওয়াজ না করে বের হয়ে আসছি ।
যাই হোক আম্মু ১০০ টাকা গুজে দিতে চাইছিল , আম্মুর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই , আমি হ্যান্ডস আপ পোজ দিয়ে ঘর থেকে বের হইসি ।
আব্বুকে বাই বলি নাই তখন ।
এরপর , অবনির বাসায় গেলাম , ওখান থেকে বুয়েটে গেসি , এরপর আবার ক্যান্টনমেন্টে আসছি , এই পৌনে ৭ টা বাজে তখন ।
এর পড় বাসার নিচে পার্কে দোলনায় চরসি আধা ঘণ্টা । আরেক বাসার নিচের লাইটে বই পড়সি আরও আধা ঘণ্টা ।
তারপর গেছি কচুখেত । খালিপায়ে ।
ওইখানে যাওয়ার কারন , খালি ডিভিডি কেনা । কোন কারন ছাড়াই আমার ডিভিডি চাই । আর যেই লোকটার কাছ থেকে ওইগুলা কিনব সে একটা বজ্জাত আগে থেকেই জানতাম । এই কারনে আরও গেছি তার কাছে । ঝগড়া করা যাবে জেনে । ঝগড়া করসি। দাম চাইসে ৩০ টাকা ,একটা ডি ভি ডি । আমি তো না কিনে বের হব না ।কি মনে করে চেঁচামেচি করে বের হয়ে আসছি । আবার ঘুরসি , আরেকটা দোকান খোজার জন্য । এক কিলো হেটে হেটে আরেকটা দোকান বের করসি । ৩০ টাকা দিয়ে ২ টা ডিভিডি কিনসি ( যেটা আমার শেষ সম্বল ছিল । আজকে আমি ৭০ টাকার ডাব , ৩০ টাকার সেভেন আপ , ৫০ টাকা ভিক্ষা আর ২০০ টাকা কাদের মামাকে দিয়ে খরচ করসি )
অবশেষে বাসায় আসছি । সরাসরি বাথরুমে গেসি । সেভেন আপ বোতলটা ছিল সাথে , হিমু সমগ্র ও নিসিলাম ভিতরে । শাওয়ারের নিচে দাঁড়ায় সেভেন আপ খাইসী । কিন্তু হিমু পড়ি নাই ।
আর কি বলব দুই বছর আগে এরকম একটা সন্ধ্যা ছিল , আমি ছিলাম গাড়িতে , কোন কোচিং ক্লাস থেকে আসছিলাম । আব্বা চেম্বারে ছিল । আম্মু ও তাই । ঢাকার রাস্তার জ্যামের কারনে ১ ঘণ্টা দেরি হলেও ১০ বার ফোণ আসত আব্বু-আম্মুর কাছ থেকে । রিপোর্ট কার্ড গুলা হাতে নিয়ে আব্বু অঙ্ক করতে বসত , অসীম ইচ্ছা পোষণ করত আমাকে ক্লাসে প্রথম হয়ে দেখার জন্য । পচা মার্ক্স দেখে কয়েকটা শক্ত কথা বলত । এখনও বলে । কতবার কত ফ্রেন্ডের বাসায় যেতে পারি নাই , পারমিশন দেয় নাই বলে ,তার হিসাব নাই । ফোনে কথা বলতে বলতে আব্বা সামনে এসে গেলে ফোন রেখে দিতাম । বন্ধুদের মধ্যে সবার শেষে ( ১৯ বছর বয়সে ) ইন্টারনেট পেয়েছিলাম । আমি এগুলা কেন বলতেসি ?
আরেহ !! শেষ হয় নাই কাহিনী । আমিতো ভুলেই গেসিলাম । যখন খালি পায়ে হেটে হেটে কচুখেত যাচ্ছিলাম তখন দুইটা ছেলে পিছে হাটতেছিলো আর ওয়ানডার করতেছিলো। এক পর্যায়ে অভারটেক করে সামনে আসল দুইজন । একটু পর পর পিছে তাকায় । আমিও কম কি ! ওদের কে ধাওয়া করা শুরু করলাম । ওদের পিছন আর ছাড়ি না । আমি দুইজনের মাঝে নির্লিপ্তের মত হেটে যাচ্ছিলাম , মনে হচ্ছিলো আমি কিছুই জানি না । এটা হাস্যকর ছিল । তারা বেশ ভয় পাইসে । বাসায় এসে অনেক শান্তি পাইসি । আর শুনতে চাও ? একটু পরে আসছি , তখন বলব ।
No comments:
Post a Comment